ডিলিট হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পড়ার গোপন উপায়টি জানেন কি?
বার্তা ডেস্কঃ
হোয়াটসঅ্যাপে প্রিয় বা কাছের মানুষের সাথে চ্যাট করার সময় হঠাৎ একটি মেসেজ এসে আবার তা ‘ডিলিট’ হয়ে গেলে কৌতূহল হওয়া খুবই স্বাভাবিক। চ্যাট বক্সে ‘This message was deleted’ লেখা ভেসে উঠলে মনে প্রশ্ন জাগে— আসলে কী লিখেছিলেন তিনি?
হোয়াটসঅ্যাপে ডিলিট হয়ে যাওয়া মেসেজ সরাসরি উদ্ধার করার মতো কোনো অফিসিয়াল ফিচার এখনও নেই। তবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ফোনেই লুকিয়ে রয়েছে একটি চমৎকার উপায়, যার মাধ্যমে ডিলিট হওয়া মেসেজের কিছুটা অংশ আগে আসা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দেখে নেওয়া সম্ভব।
ডিলিট করা মেসেজ কি সত্যিই পড়া যায়? হোয়াটসঅ্যাপের ‘Delete for Everyone’ অপশন ব্যবহার করে কেউ মেসেজ মুছে ফেললে তা চ্যাট থেকে চিরতরে চলে যায়। অ্যাপে কোনো ‘Recover’ বা উদ্ধারের জায়গা থাকে না। তাই থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মিথ্যা প্রলোভনে পা দেবেন না, যা আপনাকে মেসেজ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
মুঠোফোনের ‘নোটিফিকেশন হিস্টোরি’ হতে পারে আপনার সমাধান অধিকাংশ আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘Notification History’ নামে একটি বিল্ট-ইন সুবিধা থাকে। এটি অন করা থাকলে, ফোনে আসা যেকোনো নোটিফিকেশনের রেকর্ড সেখানে জমা থাকে।
ধরা যাক, আপনার প্রিয় মানুষ আপনাকে একটি মেসেজ পাঠালেন এবং আপনি চ্যাট খোলার আগেই তা সবার জন্য ডিলিট করে দিলেন। আপনার ফোনে ‘নোটিফিকেশন হিস্টোরি’ চালু থাকলে, সেখানে আগের জমানো নোটিফিকেশন থেকে মেসেজটির কিছু অংশ পড়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এটি সব ফোনে হুবহু একইভাবে কাজ নাও করতে পারে; এটি নির্ভর করে ফোনের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ও সেটিংসের ওপর।
কীভাবে অন করবেন এই অপশনটি? সহজ কয়েকটি ধাপে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি চালু করতে পারেন: ১. প্রথমে ফোনের Settings-এ যান। ২. এরপর Notifications অপশনে ক্লিক করুন। ৩. সেখান থেকে Notification History বেছে নিয়ে অপশনটি On করে দিন।
মনে রাখা জরুরি: মেসেজটি আসার আগেই এই অপশনটি চালু থাকা আবশ্যক। মেসেজ ডিলিট হয়ে যাওয়ার পর এই সেটিংস চালু করলে পুরোনো মেসেজ আর দেখা যাবে না। এছাড়া ছবি, ভিডিও বা ভয়েস মেসেজের ক্ষেত্রে এই ট্রিকটি নাও কাজ করতে পারে।
থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহারে চরম সতর্কতা! ইন্টারনেটে ‘ডিলিট হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখুন’—এমন নানা প্রলোভন দেখানো অ্যাপের অভাব নেই। কিন্তু এগুলোকে ভুলেও বিশ্বাস করবেন না। অজানা অ্যাপ ব্যবহার করলে আপনার ফোনের পারমিশন নিয়ে ব্যক্তিগত চ্যাট ও সংবেদনশীল তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই যেকোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ এড়িয়ে ফোনের নিজস্ব ‘বিল্ট-ইন’ ফিচার ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।