পেঁয়াজের দাম কি নাগালের বাইরে, নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের!
বার্তা ডেস্কঃ
গত এক বছরে দেশে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৫৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের খুচরো ও পাইকারি বাজারে। মাসখানেক আগেও যে পেঁয়াজ ১৫-১৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, তা এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ফলে হেঁসেল থেকে শুরু করে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ—সর্বত্রই রান্নার খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে।
দাম বাড়ার প্রধান কারণসমূহ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ফলন বিপর্যয়: দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য মহারাষ্ট্র (নাসিক), মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজ চাষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- জোগান ও সংরক্ষণের অভাব: বাংলায় উৎপাদিত ‘সুখসাগর’ পেঁয়াজের ফলন এবার ভালো হয়নি। পাশাপাশি দেশে উন্নতমানের সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রচুর পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে দামে।
- ভিন রাজ্যের ওপর নির্ভরতা: বছরের প্রায় ৬-৭ মাস রাজ্য নিজস্ব পেঁয়াজে চললেও, বাকি সময় নাসিকসহ অন্য রাজ্যের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে স্থানীয় সুখসাগর পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেলে ভিন রাজ্য থেকে আমদানি বহুগুণ বাড়াতে হবে, যা দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কবে কমতে পারে দাম? পশ্চিমবঙ্গ ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন লাল পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী জানুয়ারি মাসের আগে দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে দুর্গাপুজো ও উৎসবের মরশুমে পেঁয়াজের ঝাঁজ পকেটে বজায় থাকবে।
সরকারি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করছে এবং ‘Kanda Express’ চালু করেছে। অন্যদিকে, রাজ্যে কৃত্রিম সংকট রোধ করতে বেআইনি মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার এবং নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।