বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা প্রসব রুখতে রাজ্যে কড়া পদক্ষেপ, পুলিশি অভিযানের নির্দেশ!
বার্তা ডেস্কঃ
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজ্যে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকাদের সন্তান প্রসবের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে, নাবালিকা বিবাহ ও প্রসবের তালিকায় রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের (হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে) ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। যেহেতু এটি কেবল সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হিসাব, তাই প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলাভিত্তিক উদ্বেগজনক তথ্য:
- মুর্শিদাবাদ: গত ছয় মাসে মোট ১২,৮৫৫টি নাবালিকা প্রসবের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে (গ্রামীণ এলাকা: ১২,৫৮৫, শহরাঞ্চল: ২৬৫)।
- ১০–১৩ বছর বয়সি: ২৮ জন
- ১৩–১৫ বছর বয়সি: ৮১৭ জন
- ১৫–১৮ বছর বয়সি: ৬,৫২৭ জন
- ১৮ বছর বয়সি: ৫,৪৮৩ জন
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মোট ৪,১৭৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে (গ্রামীণ এলাকা: ৪,০৬৩, শহরাঞ্চল: ১১৫)।
- ১০–১৩ বছর বয়সি: ৫ জন
- ১৩–১৫ বছর বয়সি: ২৪৪ জন
- ১৫–১৮ বছর বয়সি: ১,৯৬৯ জন
- ১৮ বছর বয়সি: ১,৯৬০ জন
সরকারের কড়া পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধুমাত্র সচেতনতামূলক প্রচারের ওপর নির্ভর না করে আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে কঠোর পুলিশি অভিযান এবং আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
১. স্বামীদের শোকজ নোটিশ: যেসব নাবালিকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হয়েছে, তাঁদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হবে। এক মাসের মধ্যে তাঁদের স্ত্রীদের বয়স ১৮ এবং নিজেদের বয়স ২১ বছর হওয়ার আইনি প্রমাণ জমা দিতে হবে। প্রমাণে ব্যর্থ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২. আইনি মামলা ও গ্রেপ্তার: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তারি চালানো হবে। ৩. সরকারি সুবিধা বাতিল: যেসব পরিবার নাবালিকা বয়সে বিয়ে দিচ্ছে বা এই অপরাধে যুক্ত থাকছে, তাদের সরকারি সমস্ত সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।