জিটিএ-তে নতুন প্রশাসক, তদন্তে কমিটি! কাউকে ছাড় নয়, পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বার্তা ডেস্কঃ জিটিএ-তে নতুন প্রশাসক, তদন্তে কমিটি: “কাউকে ছাড় নয়”, পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পাহাড়: উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝেই গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-তে বড়সড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অনীত থাপার ইস্তফার পর তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে জিটিএ-র প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএএস আধিকারিক স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে। নবান্ন থেকে ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিটিএ-র একাধিক দুর্নীতির তদন্তে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্ত কমিটি।

দীর্ঘদিন ধরে জিটিএ-র বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। সেই সমস্ত দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রমন। দুই সদস্যই ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রাথমিক পরিদর্শন শেষ করেছেন।

যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে:

  • শিক্ষক নিয়োগ: বেআইনিভাবে ৪০০-র বেশি শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ।
  • আম্রুত প্রকল্প: পাহাড়ের পানীয় জল সরবরাহের জন্য বরাদ্দ কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘আম্রুত’ (AMRUT) প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার অপব্যবহার।
  • উন্নয়ন পর্ষদ: লেপচা ও তামাং পর্ষদ-সহ মোট ১১টি জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল থেকে ব্যাপক অর্থ লোপাট।

কালিম্পঙের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনগণের কষ্টের টাকা যারা লুট করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত শেষ হলেই এফআইআর দায়ের, দোষীদের গ্রেফতার এবং লুটের টাকা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার মোট ৫৯টি বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছিল এই স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা জিটিএ। তবে সাম্প্রতিক নানা অনিয়ম ও আদালতের হস্তক্ষেপের পর রাজ্যের এই কড়া পদক্ষেপ পাহাড়ের রাজনীতি ও প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *