পুজোর আগেই বড়সড় বিপত্তি! শহরের ৪০টি নামী রেস্তরাঁয় তালা ঝোলাল প্রশাসন।
বার্তা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজোর মাত্র এক মাস বাকি, আর তার আগেই তিলোত্তমার খাদ্যরসিকদের জন্য চরম অস্বস্তিকর খবর। উৎসবের মরশুমে শহরের নামজাদা রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের আড়ালে ক্রেতাদের কী পরিবেশন করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। শহরের ১৭০টি রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানে তল্লাশি চালিয়ে যে ভয়ঙ্কর ছবি উঠে এসেছে, তাতে আঁতকে উঠেছেন আধিকারিকরা।
অভিযানে দেখা গেছে, শহরের বড় বড় আউটলেটে অবাধে চালানো হচ্ছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের কাজ। বহু দোকানে উদ্ধার হয়েছে পচা মাংস, ছত্রাক ধরা খাবার এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিক। যে তেলে মাত্র তিনবার রান্না করার নিয়ম, সেখানে একই তেল শত শত বার ব্যবহার করে খাবার তৈরি হচ্ছিল—যা কার্যত বিষে পরিণত হয়েছিল। পুরসভার অভিযানে প্রায় দেড় টন পচা ও নিম্নমানের খাবার নষ্ট করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে করিমস (রিপন স্ট্রিট), নিজামস (ধর্মতলা), শিমলা বিরিয়ানি (বাইপাস), তুং ফং ও মোক্যাম্বো (পার্ক স্ট্রিট), বিগ বস (ট্যাংরা) এবং মিষ্টির দোকান বলরাম মল্লিক ও গিরীশ চন্দ্র দে-সহ ৪০টি নামজাদা রেস্তরাঁ ও দোকানের লাইসেন্স আপাতত স্থগিত করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরসভা।
কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানান, রান্না ঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গার হাইজিন অত্যন্ত শোচনীয়। পুজোর আগে পর্যন্ত এই সারপ্রাইজ ভিজিট ও অভিযান শহরজুড়ে জারি থাকবে। তবে যেসব রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, তাদের কর্মীদের খাদ্য সুরক্ষার ট্রেনিং দেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতার মান উন্নত করে পুরসভার নিয়ম মেনে চালনা করতে পারলে তবেই পরবর্তীতে আবার লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হবে।