প্রতীক কারও সম্পত্তি নয়! হাইকোর্টে চরম বিপাকে নির্বাচন কমিশন
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20265:32 pm
উপনির্বাচনের ঠিক মুখে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটের আপাতত নিষ্পত্তি হলো না। কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলাটির শুনানি শেষ হলেও সোমবার কোনো রায় ঘোষণা করেননি বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। উভয় পক্ষের যুক্তি ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনার পর আদালত রায় সংরক্ষিত (Verdict Reserved) রেখেছে। ফলে উপনির্বাচনে বিতর্কিত এই প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের ঝুলিতে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রইল।
কী নিয়ে বিতর্ক? আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগেই প্রতীক বরাদ্দ ঘিরে তৈরি হয় চরম জটিলতা। নির্বাচন কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘খাম’ প্রতীকটি ঋতব্রত শিবিরকে বরাদ্দ করে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইএসএফ (ISF) নেতা নওশাদ সিদ্দিকি।
আদালতে চরম ভর্ৎসনার মুখে নির্বাচন কমিশন: শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তিনি প্রশ্ন করেন, “আইনের কোন ধারা অনুযায়ী এই প্রতীক আইএসএফ-কে না দিয়ে অন্য শিবিরকে দেওয়া হলো? দুজন ব্যক্তি একই প্রতীকের দাবি জানালে কীভাবে একজনকে তা দেওয়া হয়?”
বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন, “নির্বাচন কমিশন যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তবে আদালতের আর কী করার থাকে? সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। যে দল আগের নির্বাচনে একটি প্রতীকে লড়ল, তা অন্যকে দিয়ে দেওয়া হলো কেন? কাউকে না দিলেই তো কোনো সমস্যা হতো না।”
কমিশনের সাফাই: অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের সিদ্ধান্তের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলকে একই ফ্রি সিম্বল (Free Symbol) পরপর দুবারের বেশি বরাদ্দ করা যায় না। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “প্রতীক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা স্থায়ী অধিকার হতে পারে না। যেখানে কোনো আইনগত অধিকার নেই, সেখানে দাবি করা চলে না।”
তবে কমিশনের এই জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কমিশনকে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
বর্তমানে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষ হলেও কোনো অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি কলকাতা হাই কোর্ট। এখন বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের চূড়ান্ত রায়ের দিকেই নজর প্রার্থীর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।