তৃণমূলের দখলে আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীক! হাইকোর্টের ভর্ৎসনায় তোলপাড় নির্বাচন কমিশন
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20265:58 pm
কলকাতা: উপনির্বাচনে আইএসএফ (ISF)-এর ‘খাম’ প্রতীক কেড়ে নিয়ে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। তবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তাদের প্রতীক বদলে ‘বাঁশি’ করে দেওয়া হয় এবং তাদের পুরনো ‘খাম’ প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে বরাদ্দ করে কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় আইএসএফ।
আদালতে বিচারপতির কড়া প্রশ্ন: শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, “আগের প্রতীক পাওয়া হয়তো ওদের আইনি অধিকার নয়, কিন্তু সেই দাবি করাটা তো স্বাভাবিক। আইএসএফ-কে না দিয়ে অন্য দলকে সেই চিহ্ন দেওয়া হলো কেন?”
কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি আরও যোগ করেন, “আপনারা কোন আইনি ধারায় এই প্রতীক ডেমোক্রেটিক তৃণমূলকে দিলেন, তা আদালতকে স্পষ্ট করুন। মনে হচ্ছে কমিশন আগে থেকেই অনিয়ম করে রেখেছে, আর এখন তা ঢাকার চেষ্টা চলছে। স্বশাসিত সংস্থা স্বচ্ছ না হলে এবং প্রাইভেট পার্টির মতো পরিচালিত হলে এমনটাই ঘটে।”
কমিশন ও মামলাকারীর যুক্তিসমগ্র: কমিশনের পক্ষে আইনজীবী জিষ্ণু সাহা দাবি করেন, সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন দুটি ভিন্ন বিষয়। প্রতীক বরাদ্দ করা বা প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল নির্বাচন কমিশনেরই রয়েছে, প্রতীক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
এর জবাবে আইএসএফ-এর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু সেই অধিকার কখনো একপেশে হতে পারে না।”
মামলার সমস্ত যুক্তি শোনার পর রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি। হাইকোর্টের এই রায়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে উপনির্বাচনে দলগুলির প্রতীকের ভবিষ্যৎ।