পুরভোটেও কি অধরা ‘জোড়াফুল’! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় ধাক্কা খেল মমতা শিবির?
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20266:32 pm
নয়াদিল্লি: উপনির্বাচনের পর এবার কি পুরভোটেও ইভিএম (EVM) থেকে উধাও হতে চলেছে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক? সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে এমনটাই জল্পনা জোরালো হচ্ছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।
মূলত তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আসলে কার দখলে থাকবে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব তৃণমূল? এই বিতর্কের নিষ্পত্তি চার মাসের মধ্যে করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
শীর্ষ আদালত ঋতব্রত শিবির ও মমতা শিবির—দুই পক্ষকেই নিজেদের সপক্ষে সমস্ত নথি ও যুক্তি পেশ করার জন্য ৪ সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছে। নথিপত্র জমা পড়ার পর পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
কালীঘাট শিবিরের আইনজীবীরা আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন, অক্টোবরের মধ্যে অথবা অন্তত আসন্ন পুরভোটের আগেই যেন নাম ও প্রতীক বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটে। উদ্দেশ্য ছিল, জোড়াফুল প্রতীক ফিরিয়ে নিয়েই পুরভোটে লড়াই করা। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর সেই সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী ডি এস নাইডু জানান, সামনে পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচন রয়েছে। তার ওপর জেলা থেকে নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়বে। তাই নথি যাচাই ও শুনানি শেষ করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি কমিশনকে প্রযুক্তি ও ‘মেশিন লার্নিং’ ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিলে কমিশনের আইনজীবী জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা সত্ত্বেও সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখতে নির্দিষ্ট সময় লাগবেই।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ (আটকে) করে দেয়। সে সময় মমতা শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক ও ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঋতব্রত শিবিরকে ‘খাম’ প্রতীক ও ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতীক হারানোর ধাক্কায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে রেজিনগরে নতুন প্রতীকে প্রার্থী রবিউল করিম চৌধুরীকে দাঁড় করাতে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল শীর্ষ নেতৃত্বকে। দলীয় কর্মীদের মনোবল ফেরাতে জোড়াফুল প্রতীক উদ্ধার করা কালীঘাট শিবিরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে পুজোর পর কলকাতা ও হাওড়াসহ একাধিক পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা থাকলেও আগামী চার মাসের আগে প্রতীক জট কাটার কোনো আইনি সম্ভাবনা নেই। ফলে পুরভোটেও জোড়াফুল ছাড়া অন্য প্রতীকেই লড়তে হতে পারে মমতা শিবিরকে।