চারতলা থেকে ঝাঁপ না কি হত্যা! প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যের ময়নাতদন্তে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বার্তা ডেস্কঃ

বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারির রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য চরমে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর গুরু কৃপা কুঞ্জ ভবনের চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সামনে আসতেই রহস্য আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও গ্রাইন্ডার উদ্ধার

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মনে করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দীপকের শরীরে অন্তত ৬টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। পাঁজরের হাড় ও পা ভাঙার পাশাপাশি মাথায় গভীর ক্ষত এবং যৌনাংশে মারাত্মক আঘাত ও কাটার দাগ পাওয়া গিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রহস্য আরও বাড়িয়েছে মৃতের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ইলেকট্রিক গ্রাইন্ডার। ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি নিজেই নিজের ওপর গ্রাইন্ডার চালিয়ে আঘাত করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে—তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। শরীরে বিষ বা মাদকের উপস্থিতি ছিল কি না জানতে রক্তের নমুনা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

দীপকের পরিবারের অভিযোগ, আশ্রমে ছেলের সঙ্গে তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হতো না। পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের হতেই ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। ঘটনার আগে রসিক দুলারি কার কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তা জানতে তাঁর মোবাইলের ডেটা ও কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি আশ্রমের কর্মী ও সেবাদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সনাতন সংস্কৃতি ও বৃন্দাবনের ভাবমূর্তি রক্ষায় নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সাধু-সন্তরা।

ঘটনার পরেই আশ্রমে কড়া পোশাকবিধি

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শ্রীহিত রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রম কর্তৃপক্ষ ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও শিষ্যদের জন্য তাৎক্ষণিক কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে:

  • সাধারণ শিষ্যদের জন্য নিয়ম: যেসব গৃহস্থ শিষ্য কোনো ব্যবসা বা জীবিকার (যেমন দোকান বা ঠেলা চালানো) সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা আর আশ্রমের নির্দিষ্ট সাদা পোশাক পরতে পারবেন না।
  • নতুন পোশাকবিধি: এমন সদস্যদের সাধারণ কুর্তা-পাজামা পরতে হবে।
  • সাদা পোশাকের অনুমতি: শুধুমাত্র প্রেমানন্দ মহারাজের প্রত্যক্ষ সেবা ও কুঞ্জের দেখভালের কাজে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত সদস্যরা ছাড়া অন্য কারও জন্য সাদা পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে আসল সত্য কী, তা বের করতে এখন ফরেনসিক রিপোর্ট ও মোবাইল তথ্য বিশ্লেষণের ওপরই জোর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *