ভয়ংকর গডজিলা এল নিনোর থাবা! বর্ষা শেষে কেমন বদলাবে আবহাওয়া? বড় সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া দপ্তর।
বার্তা ডেস্কঃ
বিদায় নিচ্ছে বর্ষা, কিন্তু স্বস্তির বার্তা নেই আবহাওয়া দপ্তরের হাতে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে ইতিমধ্যেই জাঁকিয়ে বসেছে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño)। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে ‘নিউট্রাল আইওডি’ (Neutral IOD)। এই দুই জলবায়ু পরিস্থিতির জোড়া প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে দেশের আবহাওয়ায় বিরাট রদবদলের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
মূল হাইলাইটস:
প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা।
২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে জানাচ্ছে ক্লাইমেট মডেলগুলো।
ভারত মহাসাগরে নিউট্রাল আইওডি থাকায় বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।
তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতে বর্ষা-পরবর্তী বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা।
আইওডি (IOD) নিউট্রাল থাকা বলতে কী বোঝায়?
ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল বা আইওডি হলো ক্রান্তীয় ভারত মহাসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের জলভাগের তাপমাত্রার তারতম্য।
পজিটিভ আইওডি: আফ্রিকার সংলগ্ন পশ্চিম অংশের জল বেশি গরম থাকে, যা ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ডেকে আনে।
নেগেটিভ আইওডি: এর বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি করে বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়।
নিউট্রাল আইওডি: সমুদ্রের দুই প্রান্তের তাপমাত্রায় তেমন কোনো পার্থক্য থাকে না।
বর্তমানে নিউট্রাল আইওডি বজায় থাকায় ভারত মহাসাগর থেকে বাড়তি বৃষ্টি পাওয়ার মতো কোনো সাপোর্ট মিলবে না। ইতিমধ্যেই ভারতে ১৩ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে বর্ষা শেষ হয়েছে, তাই এই পরিস্থিতি কিছুটা চিন্তার।
বর্ষার বিদায়ের পর কী হতে পারে?
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই সময়টায় দক্ষিণ ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বড় অঙ্কের বৃষ্টিপাত হয়। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা ও কর্ণাটকে এই সময় আবহাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকে। তবে এল নিনোর প্রভাবে অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্বে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
শীতের আমেজে টান পড়ার আশঙ্কা
আবহাওয়াবিদদের মতে, শক্তিশালী এল নিনোর সার্বিক প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন শীতকালের ওপর। ফলে এ বছর ঠান্ডা পড়তে কিছুটা দেরি হতে পারে, এমনকি স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডার দাপট কম হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।