মরণপণ লড়াইয়ে শত শত প্রাণ বাঁচিয়ে নায়ক ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর!
বার্তা ডেস্কঃ
চরম বিপদের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের জীবন বাজি রাখা এবং সহযাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর কর্তব্যে অবিচল থাকা— একজন প্রকৃত বীরের পরিচয় ঠিক এটাই। সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) বিমানে এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তঝরা অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন তিনি। বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত। তাঁর এই অসীম সাহস ফের গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিয়েছে ৪০ বছর আগের এক ইতিহাস এবং ভারতীয় বীরাঙ্গনা নীরজা ভানোটের অদম্য লড়াইয়ের কথা।
১৯৮৬ সালের সেই বিভীষিকাময় ১৭ ঘণ্টা
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে ফিরে যেতে হয় ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বরে। মুম্বই থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘প্যান আম ফ্লাইট ৭৩’ (Pan Am Flight 73)। আকাশপথে নিশ্চিন্তে যাত্রা করার পর বিমানটি যখন করাচি বিমানবন্দরে নামল, তখনই ঘটে চরম বিপর্যয়। সশস্ত্র চার হাইজ্যাকার ঢুকে পড়ে বিমানে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পেয়েই চটজলদি ককপিটে থাকা পাইলটদের সতর্কবার্তা পাঠান সিনিয়র ফ্লাইট পার্সার নীরজা ভানোট। নীরজার বুদ্ধিমত্তায় দুই পাইলট তড়িঘড়ি বিমান থেকে বেরিয়ে যান, যার ফলে হাইজ্যাকারদের পক্ষে বিমানটিকে অন্যত্র উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়ে।
৩৫০ যাত্রীকে বাঁচাতে নিজের প্রাণ বিসর্জন
এর পর শুরু হয় বন্দুকবাজদের সঙ্গে যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের আসামান লড়াই। বন্দিদশার ১৭ ঘণ্টা ধরে নীরজা একাই বিমান সামলেছেন। যাত্রীদের সাহস জুগিয়েছেন, এমনকি সুকৌশলে পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখে হাইজ্যাকারদের হাত থেকে অনেক যাত্রীর পরিচয় গোপন রেখেছেন।
বিমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে আলো নিভে যায়। সেই অন্ধকারের সুযোগে নীরজা ইমার্জেন্সি দরজা খুলে যাত্রীদের বের হতে সাহায্য করেন। হাইজ্যাকাররা বেপরোয়া গুলি চালাতে শুরু করলে তিন শিশুর প্রাণ বাঁচাতে নিজের শরীর দিয়ে ঢাল তৈরি করেন নীরজা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শেষ রক্ষা হয়নি, তবে নিজের প্রাণ দিয়ে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে যান এই বীর নারী।
ইতিহাসের পাতায় অমর নীরজা
অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে নীরজা ভানোটকে ‘মরণোত্তর অশোক চক্র’ দেওয়া হয়। তিনি এই সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়া প্রথম মহিলা এবং সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয়। পরবর্তীতে তাঁর মহাকাব্যিক জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল চলচ্চিত্র ‘নীরজা’। আজ ফ্লাইদুবাইয়ের ক্রাইসিস পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের লড়াই ফের প্রমাণ করল— অদম্য সাহস আর বীরত্বের ঐতিহ্য আজও ভারতের রক্তে বহমান।