ককপিটে রক্তারক্তি! ক্ষতবিক্ষত শরীরে ১৭৪ প্রাণ বাঁচিয়ে বিশ্বসেরা নায়ক ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত
বার্তা ডেস্কঃ
আকাশপথে মহা-বিপর্যয় রুখল ভারতীয় তরুণের আসাম সাহসিকতা। ককপিটে কো-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলায় রক্তে ভেসেছিল শরীর, তবুও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে ১৭৪ জন যাত্রীসহ মোট ১৮০ জনের প্রাণ বাঁচালেন ফ্লাইদুবাই (Flydubai)-এর ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। ৯/১১-এর মতো ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়া এই চালককে এখন ‘বাস্তবের নায়ক’ বলে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা বিশ্ব।
মাঝআকাশে ককপিটের তাণ্ডব বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর FZ1073 বিমানে আচমকা নেমে আসে চরম বিপদ। সূত্রের খবর, বিমানের ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ককপিটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অতর্কিত এই হামলায় মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত পান স্মিত; তাঁর হাত প্রায় দু’টুকরো হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিমানের উচ্চতাও দ্রুত কমতে শুরু করে।
কিন্তু মারাত্মক যন্ত্রণার মধ্যেও নিজের আত্মসংযম হারাননি স্মিত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি, যাতে বাইরে থাকা ক্রু ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী কো-পাইলটকে কাবু করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা ১৫০ জন ইজরায়েলি নাগরিকসহ ১৭৪ জন যাত্রী অলৌকিকভাবে প্রাণ ফিরে পান।
‘ঠান্ডা মাথার শান্ত ছেলেটাই আজ রিয়েল হিরো’ স্মিতের এই অলৌকিক বীরত্বে যেমন গর্বিত গোটা দেশ, তেমনই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুম্বইয়ের প্রাক্তন প্রতিবেশী ডক্টর জেনিট শাহ। প্রায় ১০-১৫ বছর স্মিতের পরিবারের প্রতিবেশী হিসেবে থাকা ডঃ শাহ বলেন, “স্মিত অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের, ঠান্ডা মাথার এবং মেধাবী একজন ছেলে। যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ওর রয়েছে। আজ ও পেশাগত জীবনে যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা ওর ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন।”
দুই বছর আগে দুবাই চলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত স্মিতের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ডঃ শাহের। স্মিতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি যোগ করেন, “শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়া সত্ত্বেও ও ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছে। ও সত্যিই এক অসাধারণ মানুষ। আশা করি স্মিত দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং ওর পরিবারও এই মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারবে।”
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা ও বিশ্বমঞ্চে সম্মান অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাপ্টেনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না থাকলে বিমানটি বড়সড় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারত। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু—সবাই একবাক্যে স্মিত মচ্ছরের অকুতোভয় সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতীয় এই ক্যাপ্টেন। গোটা বিশ্ব এখন প্রার্থনা করছে ককপিটের এই বাস্তব নায়কের দ্রুত আরোগ্যের জন্য।