বর্ষায় বন্যা আর গ্রীষ্মে হাহাকার, একই শহরে কীভাবে সম্ভব এই দুই বিপরীত বিপর্যয়?

বার্তা ডেস্কঃ

ভারতের একাধিক বড় শহরে বর্ষার মৌসুমে জলজট ও ভয়াবহ বন্যা নিত্যদিনের ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ কাঠফাটা গ্রীষ্ম আসতেই শুরু হয় তীব্র জলসংকট। আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী মনে হলেও এই দুই চরম পরিস্থিতির মূলে রয়েছে একই ভেঙে পড়া ও অপরিকল্পিত নগর জল ব্যবস্থাপনা। বেঙ্গালুরুর মতো শহরে একসময় প্রায় ১,০০০টি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হ্রদ ছিল, যার সিংহভাগই আজ অবৈধ দখলদারিত্ব ও কংক্রিটের আধুনিক নির্মাণের আড়ালে হারিয়ে গেছে। জলাভূমি ও প্রাকৃতিক হ্রদগুলো শুধু অতিরিক্ত বৃষ্টির জল ধরে রেখে বন্যা রোধ করত না, বরং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পুনর্ভরণেও দারুণ ভূমিকা নিত। এখন এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ ধ্বংস হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ভাসছে, আর শুষ্ক মৌসুমে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানের জল।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে শহরগুলোর সেকেলে নিকাশি ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বইয়ের ঔপনিবেশিক আমলের নিকাশি কাঠামো এখনকার রেকর্ডভাঙা বৃষ্টি সামলাতে সম্পূর্ণ অক্ষম। পার্কিং লট, শপিং মল আর কংক্রিটের চাদরে ঢাকা শহরের মুক্ত প্রাঙ্গণ জল শোষণের স্বাভাবিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। ফলে বৃষ্টির জল মাটির নীচে না গিয়ে দ্রুত ঢালু নিচু এলাকায় জমা হয়ে বন্যার সৃষ্টি করছে। কেবল নিকাশি পাইপের ব্যাস বাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন প্রাকৃতিক জলাশয় পুনরুদ্ধার ও পরিকল্পিত নগরায়ন। তা না হলে এই দুটি সংকট বারবার শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *