ইনস্টাগ্রামে কি সরকার-বিরোধী কণ্ঠরোধ! হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার অভিযোগে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
ইনস্টাগ্রামে সরকার-বিরোধী পোস্টে কোপ পড়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে। বুধবার সকালে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিদিন হাজার হাজার সমালোচনামূলক পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। তাঁর দাবি, ইনস্টাগ্রামে কড়াকড়ি করে মানুষের প্রশ্ন থামানো যাবে না, বরং এতে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস আরও বাড়বে। ককরোচ জনতা পার্টির আর এক নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও একই অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন যে, ভারতে হাজার হাজার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, বেশ কয়েকজন শিল্পী এবং সংবাদমাধ্যমও একই ধরনের অভিযোগ করেছে:
- বরুণ গ্রোভার: কৌতুকশিল্পী বরুণ গ্রোভারের অভিযোগ, সরকারের ‘২০৪৭ সালের বিকশিত ভারত’ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যঙ্গ করা তাঁর একটি কবিতার প্যারোডি ভার্সন ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইনস্টাগ্রামের বার্তায় জানানো হয়েছে যে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে আইনি নির্দেশ মেনে এটি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
- ‘দেশভক্ত’: ব্যঙ্গধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘দেশভক্ত’ দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামান্য সমালোচনা বা রসিকতা থাকলেও সেই পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
- ‘লাইভ ল’: আইনি সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’ অভিযোগ করেছে যে সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের হলফনামা নিয়ে করা তাদের একটি পোস্ট ইনস্টাগ্রাম আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে সরিয়ে দিয়েছে, যদিও সেখানে শুধুমাত্র কমিশনের বক্তব্য ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।
ইনস্টাগ্রামকে কেন্দ্র করেই উত্থান হওয়া ব্যঙ্গধর্মী আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সম্প্রতি নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেও সক্রিয় ছিল। তবে পোস্ট সরানোর পিছনে নির্দিষ্ট কী আইনি নির্দেশ রয়েছে এবং মোট কতগুলি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই সরকারি পরিসংখ্যান বা যাচাই করা তথ্য এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।