সীমা খান্নাকে নিয়ে বড় পদক্ষেপ, ইসিআই-এর সিদ্ধান্তে তোলপাড় রাজনীতি!

 

সীমা খান্নার কাজের পরিধিতে পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদন: নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়া আধিকারিক সীমা খান্নার কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁর হাতে থাকা কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কাজের বণ্টন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে কমিশনের দাবি, এই সিদ্ধান্তে তাঁর পদমর্যাদা বা রিপোর্টিং কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আগের মতোই ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার (DEC) পর্যায়ের আধিকারিকের অধীনেই কর্মরত থাকবেন।

গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচন কমিশনের কাজে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কমিশনের অন্দরেই মতভেদ তৈরি হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সান্ধু একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে, চলতি বছরের ২৮ জুলাই জারি করা একটি অফিস অর্ডারে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের হাত থেকে আইটি বিভাগের দায়িত্ব সরিয়ে সরাসরি সীমা খান্নাকে রিপোর্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। পরবর্তীতে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির জেরে সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি।

রাজনৈতিক মহলেও সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী শিবিরের নেতারা ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সীমা খান্নার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার বিষয়টি ইআরও (ERO)-র এক্তিয়ার থেকে সরিয়ে দিল্লি থেকে সীমা খান্নার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল।

এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (SSR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী:

  • আগামী ৩০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
  • দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ ১২ ডিসেম্বর।
  • প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা ১৬ জানুয়ারি ২০২৭।
  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২১ জানুয়ারি ২০২৭।

সুপ্রিম কোর্টের গত ২৭ মে-এর নির্দেশের প্রেক্ষিতে এসআইআর প্রক্রিয়া বহাল রেখেই এই নতুন সংশোধনী কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজের এই নতুন বণ্টন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *