চিকিৎসক ছাড়াই দোকানে অস্ত্রোপচার, ক্যানিংয়ে মৃত্যু প্রসূতির!
ভুয়ো চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ক্যানিং: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে ভুয়ো চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মাল্টি অর্গান ফেইলিউরের কারণে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই অভিযুক্ত নূর আলম শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর নাম আজুবা শেখ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাড়িতে তিনি এক সন্তানের জন্ম দেন। প্রসবের পর ফুল (প্ল্যাসেন্টা) আটকে যাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে না নিয়ে ক্যানিংয়ের গোলাবাড়ির একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানে কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই বেআইনিভাবে ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করা হয়। এতেই তাঁর ব্যাপক রক্তক্ষরণ (PPH) শুরু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘হাইপোভোলেমিক শক’ ও ‘মাল্টি অর্গান ফেইলিউর’-এর উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য দফতরের একটি বিশেষ দল ওই ওষুধের দোকানে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো তথ্য পায়। তদন্তকারীদের মতে, দোকানটির শুধু খুচরো ওষুধ বিক্রির লাইসেন্স ছিল, কোনো ক্লিনিক চালানোর অনুমতি ছিল না। এছাড়া, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য সেখানে একটি সাধারণ ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করা হতো, যা চরম স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে ক্যানিংয়ের মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে (SDPO) আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ভিত্তিতেই পুলিশ ওই চক্রের মূল মাথা নূর আলম শেখকে গ্রেফতার করেছে। সে নিজেকে ফার্মাসিস্ট পরিচয় দিয়ে এই অবৈধ অস্ত্রোপচার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, দোকানটি সিল করার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া, সিসিটিভি ফুটেজ, রেজিস্টার এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক প্রসূতির মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।