কালীপুজোর রাতে বিষাক্ত বাতাস, ফুসফুসে ঢুকছে ২০টি সিগারেটের ধোঁয়া!
শীতের শুরুতেই কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: শীতের আগমনেই কলকাতার বাতাস ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। দিল্লির মতো শহরও বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে তিলোত্তমার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক সংযুক্তা দত্ত। তাঁর মতে, বছরের এই বিশেষ সময়ে কলকাতার বাতাসে দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
চিকিৎসক সংযুক্তা দত্তের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের বায়ুদূষণ বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি সিগারেট সেবনের সমতুল্য ক্ষতি করছে শহরের বাসিন্দাদের শরীরে। এই স্বাস্থ্যসংকট ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলকেই সমানভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে কালীপুজো বা দীপাবলির মতো উৎসবের সময়ে কলকাতার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তাঁর দাবি, কালীপুজোর দিনে শহরের বাতাসে যে পরিমাণ দূষণ থাকে, তা একটি সদ্যোজাত শিশুর ফুসফুসের জন্য ১৫-২০টি সিগারেট টানার মতোই ক্ষতিকর।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের দীপাবলির রাতে কলকাতার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ১২৭ থেকে বেড়ে ৪৩৪-এ পৌঁছায়, যা ‘সিভিয়ার’ বা চরম বিপজ্জনক পর্যায়ের নির্দেশক। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং যাদবপুরের মতো এলাকায় দূষণের সূচক ৫০০-এর ঘর স্পর্শ করেছিল। উৎসবে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM 2.5 এবং PM 10)-এর মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। উৎসবের পরবর্তী দিনগুলিতেও যাদবপুর, বালিগঞ্জ ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এলাকায় বায়ুর গুণমান সন্তোষজনক ছিল না।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে চিকিৎসক ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ, যানবাহনের নিয়মিত দূষণ পরীক্ষা (Pollution Check) এবং নিষিদ্ধ বাজি পোড়ানো পুরোপুরি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, প্রতি বছর শীতের শুরুতে কলকাতাকে এক বিশাল ‘গ্যাস চেম্বার’-এর মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।