ঘরের লক্ষ্মী রূপেই পূজিতা হন ভয়াল একজটা তারা! নদিয়ার এই তন্ত্রগ্রামের রহস্য জানলে চমকে যাবেন!
সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন তন্ত্রসাধনা ও শক্তি আরাধনার ঐতিহ্য বুকে নিয়ে নদিয়ার ধুবুলিয়ার বেলপুকুর আজ ‘তন্ত্রগ্রাম’ নামে পরিচিত। কার্তিকী অমাবস্যা এলেই এই গ্রামের ঘরে ঘরে প্রায় তিনশোরও বেশি কালীপুজোর আয়োজন করা হয়, যার অধিকাংশই পরিচালিত হয় তন্ত্রমতে। প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে নদিয়ারাজ রুদ্র রায়ের আমলে ঢাকা বিক্রমপুরের সাধক রামচন্দ্র ভট্টাচার্য এখানে এসে একজটা তারা মন্ত্রে সিদ্ধিলাভ করেন এবং তাঁর হাত ধরেই এই তন্ত্রসাধনার ধারার সূত্রপাত ঘটে। শ্মশানের জ্বলন্ত চিতায় পূজিতা উগ্র দেবী একজটা তারা এই পরিবারের ঘরে ঘরে দেবীর মতো পরম ভালোবাসায় আরাধিতা হন।
রামচন্দ্র ভট্টাচার্যের বংশধরেরা আজ বহুভাগে বিভক্ত হলেও বড় বাড়ির তারা যন্ত্র কিংবা ন’বাড়ির মহাশঙ্খের জপমালা আজও তাঁদের বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই গ্রামে একই দালানে তিনটি কালীমূর্তি পূজার যেমন অনন্য নিয়ম রয়েছে, তেমনই সূর্য ডোবার আগেই গুরুবাড়ির প্রতিমা কাঁধে করে নিরঞ্জন দেওয়ার ঐতিহ্যও অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শক্তির পাশাপাশি চৈতন্য মহাপ্রভুর মাতামহ নীলাম্বর চক্রবর্তীর বসতবাড়ি ও মদনগোপাল মন্দিরকে কেন্দ্র করে এখানে বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক পরম সহাবস্থান ঘটেছে। যুগের পরিবর্তন ঘটলেও প্রবীণদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্ম আজও বংশপরম্পরায় বেলপুকুরের সাড়ে তিনশো বছরের বিশ্বাস ও ধারা টিকিয়ে রেখেছে।