ফাটাকেষ্টর মা কালীর জন্য বহুমূল্য উপহার, পরে সেই উপহারের কী হয় জানেন!
কলকাতার আইকনিক ফাটাকেষ্টর কালীপুজো: ঐতিহ্যের রূপকার ও উৎসবের মহিমা
কলকাতা: উত্তর কলকাতার কালীপুজোর কথা উঠলে সবার আগে যে নামটি উঠে আসে, তা হলো ‘ফাটাকেষ্ট’। কলেজ স্ট্রিটের এক পানের দোকানের সাধারণ ছেলে থেকে উত্তর কলকাতার ‘বেতাজ বাদশা’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে কৃষ্ণচন্দ্র দত্তের জীবনকাহিনি। মা কালীর পরম ভক্ত হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণচন্দ্র দত্তের হাত ধরেই আজকের এই বর্ণময় ও রাজকীয় কালীপুজোর সূচনা হয়েছিল।
পুজোর বিবর্তন ও ঐতিহ্য:
মূলত ‘নবযুবক সংঘ’-এর ছোট পরিসরের পুজোকে কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত নিজের উদ্যোগে সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত করেন। তাঁর পরিকল্পনাতেই এই পুজো আধুনিক রূপ পায় এবং উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ১৬ ফুট উঁচু বিশালাকার প্রতিমা এবং চন্দননগরের আলোকসজ্জা এই পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১২ দিনব্যাপী মণ্ডপে থাকা এই প্রতিমা দর্শনে প্রতিবছরই দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম ঘটে।
বিগ বি-র সংযোগ ও হিরের নাকছাবি:
ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর জৌলুস একসময় টলিপাড়া ছাড়িয়ে মুম্বই পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ‘দো আনজানে’ ছবির শুটিংয়ের সময় অমিতাভ বচ্চন ফাটাকেষ্টর আমন্ত্রণে এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সময় মা কালীর প্রতি ভক্তি জানিয়ে অমিতাভ ও জয়া বচ্চন একটি বহুমূল্য হিরের নাকছাবি উপহার দিয়েছিলেন। লোকশ্রুতি রয়েছে, পরবর্তীকালে সেই মূল্যবান নাকছাবিটি চুরি হয়ে যায়। তবে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ সেই হিরের নাকছাবির অবিকল একটি প্রতিলিপি তৈরি করে পুনরায় প্রতিমায় স্থাপন করা হয়, যা আজও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সাধারণ মানুষের কাছে আজও ফাটাকেষ্টর কালীপুজো কেবল একটি উৎসব নয়, বরং উত্তর কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় স্মারক।