বিশ্ববিদ্যালয়েও এবার পৃথক কমিশন, শিক্ষক নিয়োগে বড় চমক রাজ্যের!
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বতন্ত্র কমিশন গঠনের ভাবনা: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন রাজ্য সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা ও অভিন্নতা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ‘সার্ভিস কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরির জন্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গঠিত এই কমিটিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক, প্রশাসনিক প্রতিনিধি এবং দপ্তরের আধিকারিকরা রয়েছেন। প্রস্তাবিত কমিশনটি কীভাবে পরিচালিত হবে, এর প্রশাসনিক ক্ষমতা কতটা থাকবে এবং নিয়োগের পদ্ধতি কী হবে— সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা এই কমিটির মূল কাজ। পাশাপাশি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিয়োগের যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, তার খুঁটিনাটিও বিশ্লেষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা।
কমিটির কাজের পরিধি কেবল নতুন কমিশন গঠনের বিষয়ে মতামত দেওয়াই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করা উচিত, সে বিষয়েও একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করতে হবে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এরপরই সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে স্কুল ও কলেজের শিক্ষক নিয়োগের জন্য আগে থেকেই পৃথক কমিশন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এমন কোনো স্বতন্ত্র সংস্থা নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নীতি অনুসরণের যে প্রবণতা দেখা যায়, নতুন কমিশন গঠনের মাধ্যমে তার অবসান ঘটিয়ে একটি অভিন্ন নিয়ম চালু করা সম্ভব কি না, তা-ই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা কতটুকু হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ভূমিকা কতটা বহাল থাকবে— সেই সংক্রান্ত ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই এই প্রশাসনিক সংস্কারের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দীর্ঘদিনের নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষিতে সরকারের এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।