ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় অধরা কেন? ট্রাম্পের অস্বস্তি বাড়ালেন খোদ ভান্স!
ইরান যুদ্ধের জের: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের দায় নিয়ে ট্রাম্প-ভান্স দ্বন্দ্ব, চাপে রিপাবলিকানরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলের দায়ভার নিয়ে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের মধ্যে। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির অন্দরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা।
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর জে ডি ভান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ইরান যুদ্ধের দিকে আঙুল তুলে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করেন। এতদিন ট্রাম্পের প্রতিটি সিদ্ধান্তের নিঃশর্ত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভান্সের এই নতুন অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, এবারের হারের পর ভান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধি ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি শুরুতে এ ব্যাপারে অবগত নন বলে জানান। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিদেশ সফরের প্রাক্কালে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত জরুরি। আমেরিকা প্রয়োজনে আবারও এমন যুদ্ধে নামবে।” ট্রাম্প সরাসরি ভান্সকে আক্রমণ না করলেও, ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন।
দলীয় এই মতবিরোধ শুধু ট্রাম্প ও ভান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্তত ৮ থেকে ১০ জন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা ইরান যুদ্ধের ব্যর্থতার জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, পরাজয়ের দায়ভার প্রেসিডেন্টকেই নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যুদ্ধে জড়ানোর জন্যই রিপাবলিকানরা ভোটে হেরেছে এমনটি নয়; বরং যুদ্ধের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া বা জয়লাভ করতে না পারার কারণেই জনভিত্তি হারিয়েছে দলটি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ইরান যুদ্ধকেই আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আট মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও যুদ্ধ শেষ করতে না পারার বিষয়টি ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। নিজের গড়ের জায়গাগুলোতেও দলের শোচনীয় পরাজয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।