৮ বছর পর উসমান খোয়াজার বিস্ফোরক মন্তব্য, বল টেম্পারিংয়ে কি জড়িয়ে ছিল পুরো অস্ট্রেলিয়া দল?

 

স্যান্ডপেপারগেট নিয়ে বিস্ফোরক উসমান খোয়াজা: তদন্তের নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮ সালের কুখ্যাত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বা বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার উসমান খোয়াজা। আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে যাওয়া তাঁর আত্মজীবনী ‘সবর’-এ খোয়াজা দাবি করেছেন, বল টেম্পারিং কেবল কেপটাউন টেস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তার আগের পোর্ট এলিজাবেথ টেস্ট থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

২০১৮ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউল্যান্ডস টেস্টে ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে স্যান্ডপেপার দিয়ে বলের আকৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করতে দেখা যায়। ঘটনার তদন্তে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ডেভিড ওয়ার্নারকে পরিকল্পনাকারী, ব্যানক্রফটকে বাস্তবায়নকারী এবং তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও তা রোধ করতে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করে। এর ফলে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ১২ মাস এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

খোয়াজা তাঁর বইতে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি কেপটাউন টেস্টে ব্যানক্রফটের পাশেই বসেছিলাম। তবুও তদন্ত চলাকালীন আমার সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তকারীরা।” তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় কেবল তিন জন খেলোয়াড় নয়, বরং পুরো দলের দায় নেওয়া উচিত ছিল। তিনি ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সম্মিলিত দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও অস্ট্রেলিয়ার মূল বোলাররা (প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়ন) বল টেম্পারিংয়ে কোনো বহিরাগত বস্তু ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন।

এদিকে, খোয়াজার এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একটি বিবৃতি দিয়েছে। সিএ জানিয়েছে, তারা তাদের তৎকালীন তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে এবং সমস্ত তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। খোয়াজার নতুন এই দাবি ক্রিকেট মহলে ফের পুরোনো ক্ষত উসকে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *