দামোদরের গর্ভ থেকে উঠে এল মা কালী! অবাক করা এই মূর্তির রহস্য কী?

 

দামোদর থেকে উদ্ধার হওয়া শতাব্দী প্রাচীন কঙ্কালেশ্বরী দেবীর আরাধনায় মুখরিত কাঞ্চননগর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: বর্ধমানের কাঞ্চননগরের ঐতিহ্যবাহী কঙ্কালেশ্বরী মন্দিরের দেবীমূর্তি এক অনন্য পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। কালো ব্যাসাল্ট পাথরে খোদাই করা ৬ ফুট উচ্চতার এই অষ্টভুজা চামুন্ডা মূর্তিটি ঘিরে রয়েছে গভীর রহস্য ও ভক্তি।

মূর্তিটির গঠনশৈলী অত্যন্ত সূক্ষ্ম। দেবীর মাথার ওপর রয়েছে হাতি এবং পায়ের নিচে শায়িত শিব। দেবীর উপরের ডান হাতে ত্রিশূল এবং গলায় শোভা পাচ্ছে মুণ্ডমালা। পুরাতাত্ত্বিকদের একাংশের মতে, এই মূর্তিটি বৌদ্ধ বা পাল যুগের। অনেকে আবার একে জৈন আমলের নিদর্শন বলেও মনে করেন। কারো কারো মতে, মূর্তিটি দুই হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯১৬ সালের ভয়াবহ বন্যার পর দামোদর নদের গর্ভ থেকে কষ্টিপাথরের এই দেবীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুরু হয় দেবীর নিত্য আরাধনা। প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলীও অত্যন্ত আকর্ষণীয়; নয়টি চূড়াবিশিষ্ট মন্দিরটি সম্পূর্ণ টেরাকোটার কারুকার্যে নির্মিত।

সারা বছরই এই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম থাকে। তবে কালীপুজোর দিন ভক্তদের ঢল নামে কাঞ্চননগরে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে কঙ্কালেশ্বরী দেবীর কাছে প্রার্থনা করলে সকল মনষ্কামনা পূর্ণ হয়। প্রাচীন এই দেবীর মাহাত্ম্য ও স্থাপত্যশৈলী দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *