ভুল বিজ্ঞাপন বন্ধ! বড় পদক্ষেপ নিল FSSAI, চাপে Amway ও Emami-সহ ৫ সংস্থা
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: বিজ্ঞাপনে চটকদার শব্দ ব্যবহার করে কিংবা প্যাকেটের গায়ে ‘১০০% খাঁটি’ বা ‘১০০% প্রাকৃতিক’ লিখে আর গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা যাবে না। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়ে অবশেষে নতি স্বীকার করল দেশের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও সামগ্রী প্রস্তুতকারক সংস্থা। বিজ্ঞাপনে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে FSSAI-এর কড়া সতর্কবার্তার পর এই কো ম্পা নিগুলি তাদের প্যাকেজিং ও বিজ্ঞাপন থেকে ‘১০০%’ সম্পর্কিত যাবতীয় দাবি সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
FSSAI-এর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো উপযুক্ত প্রমাণ বা সঠিক পরীক্ষা ছাড়া পণ্যের গায়ে ‘১০০% খাঁটি’ বা ‘১০০% অর্গানিক’ লেখা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপের পর যে পাঁচটি প্রধান সংস্থা তাদের ভুল স্বীকার করে সংশোধন এনেছে, সেগুলি হলো:
- বন বিস্কুটস (Bonn Biscuits Pvt. Ltd.): তাদের ‘বন জিরা ফ্লেভার জিরা বাইট বিস্কুট’-এর বিজ্ঞাপনে ‘১০০% হোল গ্রেইন’ ব্যবহারের দাবি করা হতো। FSSAI-এর আপত্তির পর এই দাবিটি বিজ্ঞাপন থেকে সরিয়ে নিয়েছে সংস্থাটি।
- ইমামি ও অ্যাপিস ইন্ডিয়া (Emami Ltd. & Apis India Ltd.): দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ঝাণ্ডু হানি’ (Zandu Honey)-র লেবেলে এতদিন ‘১০০% মধু’ লেখা থাকত। খাদ্য নিয়ামক সংস্থার আপত্তিতে এখন থেকে সেই দাবি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- অ্যামওয়ে ইন্ডিয়া (Amway India Enterprises Pvt. Ltd.): তাদের ‘পার্সোনা কোকোনাট অয়েল’-কে ‘১০০% খাঁটি নারকেল তেল’ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল। নির্দেশিকার পর সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য সরিয়ে নিয়েছে। পুরনো স্টক শেষ হওয়ার পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে বাজারে নতুন লেবেলের প্যাকেট আসবে।
- জুজা ফুডস, কেরালা (Juza Foods): শিশুদের জন্য তৈরি খাবারের প্যাকেটে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‘১০০% রাগি’, ‘১০০% ভেগান’, ‘১০০% কেরালা ব্যানানা পাউডার’-এর মতো একাধিক দাবি করা হচ্ছিল। FSSAI-এর কড়া ব্যবস্থার পর তারা ভুল স্বীকার করেছে এবং সমস্ত সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
- মাস্টারচাও ফুডস (Masterchow Foods Pvt. Ltd.): এদের জনপ্রিয় ‘রামেন নুডলস’-এর প্যাকেজিংয়ে ‘১০০% ন্যাচারাল’ লেখা থাকত, যা FSSAI-এর মানদণ্ডে সঠিক প্রমাণিত হয়নি। সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই লেবেলটি সরাতে কাজ শুরু হয়েছে।
খাদ্য নিয়ামক সংস্থার এই পদক্ষেপের ফলে এটা পরিষ্কার যে, প্যাকেজিং বা বিজ্ঞাপনে শব্দের কারসাজি করে গ্রাহকদের বোকা বানানোর দিন শেষ। আগামী দিনে এ বিষয়ে প্যাকেজিং ও বিজ্ঞাপনের নিয়মাবলী আরও কড়া করতে চলেছে FSSAI।