প্রাক্তন জামাইয়ের নিশানায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দায়ের এফআইআর!
বার্তা ডেস্কঃ
September 5, 202610:33 am
রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের বদলের আবহেই পুরনো হিংসা ও হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নামলেন বিজেপি নেতা কবীর শঙ্কর বোস। ২০২০ সালে তাঁর ওপর চলা প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এই অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আকাশ পাত্র নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ধৃতকে শ্রীরামপুরে আদালতে পেশ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শ্রীরামপুরে বিজেপি নেতা কবীর শঙ্কর বোসের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। কবীর শঙ্করের অভিযোগ, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই প্রায় দু’শো তৃণমূল কর্মী তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁর গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এমনকি সন্ধ্যা থেকে রাত দু’টো পর্যন্ত তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি। সেই সময়ে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মেলেনি, উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে মামলা আদালতে গড়ায় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত শেষে সিবিআই কবীর শঙ্কর বোসকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে ঘোষণা করে।
যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে আইনি লড়াইয়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর এবং বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে মূল অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ফের পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন কবীর শঙ্কর। শ্রীরামপুর থানায় তিনি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও হুগলি সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর সন্তোষ সিংহ (পাপ্পু সিংহ), রিষড়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র এবং প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান খানসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন।
পারিবারিক যোগ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন উল্লেখ্য, বিজেপি নেতা কবীর শঙ্কর বোস সম্পর্কে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন জামাই। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ে তিনি দু’বার পরাজিত হন। এদিকে, সম্প্রতি দলবদল করা স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কবীর শঙ্কর সাফ জানান, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ‘ভালো তৃণমূল’ বলে কিছু হয় না। এই অভিযুক্তরা তাঁর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পাশাপাশি বহু কর্মীকে খুন করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করায় পুরো শ্রীরামপুর জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন পুলিশ সাংসদসহ অন্য নামী নেতাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।