রহস্যে ঘেরা পেটকাটি মা, কেন এমন অদ্ভুত নাম?

বার্তা ডেস্কঃ

 

রহস্য ও ভক্তিতে ঘেরা ময়নাগুড়ির প্রাচীন ‘পেটকাটি মা’, কালীপুজোয় ভিড় উপচে পড়ে মন্দির চত্বরে

ময়নাগুড়ি: উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি শহরের পেটকাটি এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তি ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে অগণিত ভক্তের অগাধ বিশ্বাস এবং গা ছমছমে লোকগাথা। প্রতিবছর কালীপুজো উপলক্ষে এই মন্দির চত্বর হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, বহু বছর আগে চাষাবাদের সময় জমি খুঁড়তে গিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার কোদালের আঘাতে প্রাচীন এই মূর্তিটির পেট কিছুটা অংশ কেটে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই দেবী ‘পেটকাটি মা’ নামে পরিচিতি পান এবং এই নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয় পেটকাটি। যদিও মূর্তিটি ঠিক কোন সময়ে বা কোন শতাব্দীতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক নথি নেই।

প্রায় সাড়ে চার ফুট উচ্চতার কষ্টিপাথরের এই মূর্তিটি পদ্মের ওপর আসীন। দেবীর সারা শরীরে সাপের মালা এবং গলায় নরমুণ্ডের মালা শোভিত। মূর্তির মাথার উপরে হাতি, পেটের ওপর বিছার প্রতিকৃতি এবং পায়ের নিচে নারীমূর্তি, শেয়াল ও পেঁচার খোদাই রয়েছে। দশভুজা এই দেবীর কালের প্রবাহে তিনটি হাত ভেঙে গেলেও, বর্তমানে বাম দিকের পাঁচটি হাতে ঘণ্টা, ছিন্ন নরমুণ্ড ও অন্যান্য চিহ্ন স্পষ্ট।

দেবীর স্বরূপ নিয়ে গবেষকদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে। জলপাইগুড়ির ইতিহাস গবেষক উমেশ শর্মার মতে, স্থানীয়ভাবে ধূমাবতি পেটকাটি কালী হিসেবে পরিচিত হলেও, মূর্তিটি মূলত তন্ত্রমতে চণ্ডী কালী হিসেবে পূজিত হন। এর গঠনশৈলী অত্যন্ত বিরল এবং রহস্যমণ্ডিত।

মন্দির কমিটির সদস্য নেপাল সরকার জানান, দেবীর এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত। কালীপুজোর দিন এখানে সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে পূজা ও বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। এদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মায়ের দর্শনে আসেন এবং তাঁদের মনস্কামনা পূরণের আশায় মন্দিরে ভিড় জমান। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে বিশাল মেলাও বসে।

অজানা ইতিহাস ও লোককথার সংমিশ্রণে ময়নাগুড়ির এই পেটকাটি মায়ের মন্দির উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে আজও ভক্তদের কাছে পরম শ্রদ্ধার স্থান হয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *