দীপাবলির রাতে কয়টি প্রদীপ জ্বালালে খুলবে ভাগ্যের তালা!
বার্তা ডেস্কঃ
দীপাবলির আলোয় আধ্যাত্মিকতা: প্রদীপ জ্বালানোর বিশেষ রীতিনীতি ও তাৎপর্য
সনাতন ধর্মের উৎসবের দিনগুলিতে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা কেবল লোকবিশ্বাস নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা। প্রতিটি উৎসবের দিন নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে, যা মানবদেহের বিভিন্ন উপাদান এবং মহাজাগতিক শক্তির ভারসাম্যের প্রতীক। ধনতেরাস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত এই নিয়ম পালনের মাধ্যমে অশুভ শক্তি দূর করে সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করা হয়।
উৎসবের প্রতিটি দিনের গাণিতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
ধনতেরাসে ১৩টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে, যার একটি দক্ষিণমুখী করে যমরাজের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয় অকালমৃত্যু রোধে। অন্যদিকে, ভূত চতুর্দশীতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয় পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ লাভের আশায়। দীপাবলির মূল দিনে ২১টি প্রদীপ জ্বালানোর পেছনে রয়েছে মানবদেহের ২১টি মৌলিক উপাদান (জ্ঞানেন্দ্রিয়, কর্মেন্দ্রিয়, প্রাণ, পঞ্চভূত ও মন) শুদ্ধিকরণের দর্শন। ভাইফোঁটার ৫টি প্রদীপ মূলত পঞ্চভূতের প্রতীক হিসেবে ভাইদের বিপদ থেকে রক্ষা ও দীর্ঘায়ু কামনায় ব্যবহৃত হয়।
প্রভাব ও বিশ্বাস
এই প্রথা পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে অন্তরে জ্ঞানের আলো জ্বালানো। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সংখ্যার সঠিক বিন্যাস এবং প্রদীপের আলো বাস্তু থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ নিশ্চিত করে। মাটির প্রদীপ দেহ, তেল বা ঘি কর্ম এবং সলতে আত্মাকে নির্দেশ করে, যা সম্মিলিতভাবে মানুষের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উত্তরণের পথ প্রশস্ত করে।
এক ঝলকে
- ধনতেরাস: ১৩টি প্রদীপ, অকালমৃত্যু ভয় জয় ও ধনদেবতার আরাধনায়।
- ভূত চতুর্দশী: ১৪টি প্রদীপ, পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্ট ও আশীর্বাদ লাভের কামনায়।
- দীপাবলি: ২১টি প্রদীপ, মানবদেহের ২১টি উপাদানের শুদ্ধিকরণ ও দেবী লক্ষ্মীর আবাহনে।
- ভাইফোঁটা: ৫টি প্রদীপ, ভাইদের দীর্ঘায়ু ও পাঁচ দিক থেকে সুরক্ষার কামনায়।